বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা

 

 

logo-jobs24net.blogspot.com

১. বর্তমানে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার অবস্থান তাতে আমরা ভবিষৎ অন্ধকার দেখছি। বিশেষ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় চলে যাচ্ছে দিন দিন। এই অবস্থা থেকে আমাদের করনীয় কি তা নিচে পর্যালোচনা করা হল:

২. বর্তমানে শিক্ষা অবস্থার : (ক) বর্তমান করোনা কালীন সমস্যা ব্যাপক আকার ধারন করেছে। এই করোনা কালীন অবস্থায় শিক্ষা ব্যবস্থার এক নাজুক অবস্থায় গিয়ে পতিত হয়েছে। দীর্ঘদিন স্কুল কলেজ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। যেভাবে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে সেটাও প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থায় । বিশেষ করে এইচ.এস.সি পরীক্ষা যেভাবে অটো পাশ দেওয়া হয়েছে, এতে করে শিক্ষা মান আগামীতে কোথায় গিয়ে পৌছাবে সেটাই দেখার বিষয়। কারন এরাই আগামীতে ইউনিভার্সিটিতে, মেডিকেল,ইঞ্জিনিয়ারিং পড়বে যদি এদের কোন মান যাচাই করা ছাড়া এভাবে পাশ দেওয়া হয়, তাহলে এদের দিয়ে কিভাবে জাতি ভালো কিছু আশা করবে। 

২.১. বর্তমানে শিক্ষা অবস্থার : (খ) বিভিন্ন ভর্তি পরীক্ষায় যেভাবে প্রশ্নপাস হচ্ছে এতে করে শিক্ষার মান কোথায় গিয়ে পৌছাবে ভবিষৎ বলে দিতে পারে, তবে আশা করি এর ফল খুবই খারাপ হবে।  ইউনিভার্সিটিতে, মেডিকেল,ইঞ্জিনিয়ারিং সহ সকল ভর্তি পরীক্ষায় কাজকাল প্রশ্ন পাস হচ্ছে, যা মোটেই কাম্যনয়। বাংলাদেশ সরকার ও সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্বের গাফিলতির কারনে বর্তমান অবস্থার সামনে দাড়িয়ে !!!! 

৩. বর্তমান শিক্ষার কাঠামোগত পরিবর্তনঃ বর্তমান সরকারে আমলে শিক্ষার গুনগত মান পরিবর্তন না হলেও কাঠামোগত পরিবর্তন ঠিকই হয়েছে। এই কাঠামোগত পরিবর্তন হলো বিভিন্ন পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন। যেমনঃ পিএসসি, জেএসসি,জেডিসি ইত্যাদি, যা শিক্ষার মান বৃদ্ধি করার চেয়ে শিক্ষার মান কমিয়ে দিয়েছে। 

৪. পাঠ্যপুস্তকের পরিবর্তনঃ পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে বিভিন্ন গল্প, কবিতা এবং সৃজশীল পদ্ধতিতে পাঠ্যপুস্তকের পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু কোন প্রকার প্রশিক্ষন দেওয়া হয় নাই। বিশেষ করে শিক্ষকদের কোন প্রকার প্রশিক্ষন না দিয়েই তাদের দিয়ে পাঠ্যপুস্তকের সকল প্রকার পাঠ দান কার্যক্রম পরিচালিত করা হচ্ছে। এতে করে না ছাত্ররা কোন প্রকার ফল পায়, না শিক্ষকদের দ্বারা কোন প্রকার উন্নতি হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থার।

৫. শিক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘ সময়ঃ বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষা বর্ষ শেয় করতে করতে ২৭ থেকে ২৮ বছর লেগে যায়, কারন ৪ বছরের অনার্স শেষ করতে করতে ৬ বছর লেগে যায়। একে আমরা সেশন জট ও বলে থাকি। এর কারনে ও শিক্ষার প্রকৃত মান যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না । ফলে শিক্ষার প্রকৃত মান যাচাই করা যায় না। 

৬. বিভিন্ন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাঃ বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায়র মত এত ধরনের সমস্যা অন্যকোন দেশে আছে বলে মনে হয় না। বিভিন্ন দেশে একজন ছাত্র/ছাত্রী তার শিক্ষা জীবনের অধ্যায় শেষ করতে করতে সবোচ্চ ২২ বছর লাগে, যেখানে বাংলাদেশের লাগে ২৭-২৮ বছর । এই ধরনের বৈষম্য আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় হতে থাকলে অদুর ভবিষৎ শিক্ষার প্রকৃত মান ধ্বংষ হয়ে যাবে।

৭. আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার অভাবঃ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে বলা হয় আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা, কিন্তু বাস্তবতা হলো ভিন্ন রকমের। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা বলতে আমরা যা বুঝি তা হলো আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার, কিন্তু আমাদের দেশে হাতে গনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে দেখা যায়, কিন্তু সরকার বলে আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায় হয়েছে। কিভাবে তা আমাদের বোধগম্য নয়। 

৮. উত্তরনের উপায়ঃ শিক্ষার বর্তমান যে অবস্থা তা থেকে উত্তর করা খুবই দুরহ ব্যাপার । এনেহ অবস্থা থেকে উত্তরনের জন্য আমাদের উত্তরন করতে হলে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তনের পাশাপাশি শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে। শিক্ষা খাতের শিক্ষকদের জন্য যথাযথ প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করতে হব। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানউন্নয়ন করতে হবে। প্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্র/ছাত্রী ঝরে পরার হার কমাতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে শুরু করে সকল স্থানে জবাবদিহিতার ব্যবস্থা থাকতে হবে। যাতে করে অন্যায় করে কেউ যাতে পার পেয়ে যেতে না পারে। 

পরিশেষে বলা যায়, এসকল অবস্থা ফলাফল পাওয়া খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার, কিন্তু উত্তরন সম্ভব বলে আশা করি।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ